March 6, 2026, 2:21 am
শিরোনাম :

শিক্ষক সংকটে ভুগছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগে অনীহা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন!

অভয়নগর প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) দায়ী করছেন।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর গণমাধ্যমে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশের পর ২ ডিসেম্বর ইউজিসি একটি চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় এবং বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চায়। পরদিনই নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া ৮টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইউজিসিতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসি এ পর্যন্ত দুটি চিঠি দিয়েছে। প্রথম চিঠিতে নিয়োগ স্থগিত রেখে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ—পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বোর্ড সম্পন্নের আগেই রেজল্যুশনে স্বাক্ষর, আর্থিক অনিয়ম, কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী মনোনয়ন এবং লিখিত পরীক্ষা না নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯ জানুয়ারি পাঠানো দ্বিতীয় চিঠিতে লিখিত পরীক্ষা না নেওয়ার কারণ, বাছাই বোর্ডের সদস্যদের তালিকা, প্রার্থীদের নম্বরপত্র, সুপারিশের অনুলিপি ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি চিঠির জবাব ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাঠানো হয়েছে।
ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে কমিটির আহ্বায়ক পরিবর্তনের কারণে তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
এদিকে দীর্ঘ আড়াই মাস নিয়োগ স্থগিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কয়েকটি বিভাগে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৫০০ শিক্ষক থাকার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০৪ জন, যাদের অনেকেই শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান বলেন, অভিযোগগুলো গুরুতর, বিশেষ করে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়। সুরাহা না করে নিয়োগে অনুমোদন দিলে কমিশনই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজন হলে অভিযোগকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখর বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কেবল সুপারিশ পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। বোর্ডে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ সদস্যদের কেউ কোনো আপত্তি জানাননি। তার দাবি, ইউজিসির একজন সদস্যের ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণেই এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক সংকটে জর্জরিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষে স্বচ্ছ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থবিরতা কাটিয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই এখন গোবিপ্রবি



ফেসবুক কর্নার