June 24, 2026, 2:32 pm
শিরোনাম :
রোগীদের ট্রলি সংকট, বালুর বস্তা বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে হাসপাতালের ট্রলি খাল খননে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের প্রত্যাশা: আমডালায় দুই মন্ত্রীর প্রকল্প পরিদর্শন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ধরা, কুষ্টিয়ায় আটক ৪ মেসির জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার জোয়ার, হিলিতেও ভক্তদের উচ্ছ্বাস ইবির ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যা: নয় মাস পর ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত, দুই আসামি গ্রেপ্তার হরমুজে আটকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেধা ও যোগ্যতার কঠিন পরীক্ষায় নওগাঁয় ক্যাডেট এএসআই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল

ফিরে আসছে সেই মৃতরা, ইরান নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা ধরা পড়ে গেলো!

অভয়নগর প্রতিবেদক

ধরুন অন্যান্য আট-দশ দিনের মতো ঘুম থেকে উঠে চোখ বুলাচ্ছেন গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে; হঠাৎ জানতে পারলেন এই পৃথিবীতে আপনার আর কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রাণ হারিয়েছেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। এমন খবরে আপনি বেশ অবাক হলেও ততক্ষণে সব জায়গাতেই ছড়িয়ে গেছে আপনার মৃত্যুর খবর। শুধু আপনি একা নন, আপনার মতো অনেকেই আছেন নিহতের তালিকায়।

গেল বছরের শেষ দিকে ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দেখা মিলেছে এমন নাটকীয় ঘটনার। পশ্চিমা গণমাধ্যমের কারসাজিতে ইরানের জীবিত অনেককেই মৃত হিসেবে সংবাদ প্রচার করা হয়। সামরিক যুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে এ যেন খামেনির ইরানের বিরুদ্ধে কৌশলে দেওয়া হয়েছে তথ্যযুদ্ধের ডাক।

মবিনা বেহেশতীর ঘটনা ও অপপ্রচার বিদেশী মদদপুষ্ট সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালতে সংবাদ মাধ্যমগুলো হাঁটে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের পথে। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে ইরানের ২১ বছর বয়সী তরুণী মবিনা বেহেশতীর সঙ্গে। চলতি বছরের শুরুতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য। দাবি করা হয়, ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তিনি প্রাণ হারান।

গুজব চক্রের শিকার আরও যারা শুধু জীবিত মানুষকে মৃত প্রচার করাই নয়, আন্দোলনকারীদের তালিকায় দেখা মেলে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের ছেলের নামও। ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তিনি অংশ নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক গুজব চক্রের শিকার হয়েছেন স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণকারী পোলে গেতারের বক্সিং কমিটির প্রধান আলী আলিপুর।

গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সহিংসতাকে উসকে দিতে ঢালাওভাবে এমন মিথ্যা সংবাদের প্রচারে প্রশ্ন উঠেছে গণমাধ্যমগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও। আশ্চর্যজনকভাবে কোনো রকমের যাচাই-বাছাই ছাড়াই অপতথ্য প্রচারে শামিল হয়েছে সিএনএন (CNN) ও দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো।

তবে এসব অপপ্রচারগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই। ইরানে খামেনির অনুগত সরকার পতন ঘটাতেই জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য সংবাদ মাধ্যমগুলো সর্বস্তরে প্রচার করেছিল নিজেদের মনগড়া খবর। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তথ্য যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে নিপীড়নকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরা। এতে করে সহজেই চাপ বাড়ানো যাবে মানবাধিকার ইস্যুতে এবং ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে বর্তমান সরকারকে। যে কারণে আবেগে ভরা মিথ্যা ও স্পর্শকাতর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে একটুও দ্বিধাবোধ করেনি গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানো সংবাদ মাধ্যমগুলো।



ফেসবুক কর্নার