March 7, 2026, 9:07 am

ইকরার নেশা ও গোপন বাসর ফাঁস, আলভীর বিস্ফোরক অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিবেদক

আত্মগোপনে থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী এবার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলো করেন। এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ উল্লেখ করে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

আলভী দাবি করেন তার বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে যার নিয়ন্ত্রণ কেবল ইকরার ফোনেই ছিল। তিনি জানান গত ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ইকরার বন্ধু ও বান্ধবীরা বাসায় এসেছিলেন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তারা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেন। মৃত্যুর আগের দিন ইকরা আলভীর সহকারীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধও আনিয়েছিলেন যা সিসিটিভির আওতাতেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই ফুটেজগুলো যেন কোনোভাবেই সরানো বা নষ্ট করা না হয় সে বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

স্ত্রীর মোবাইল ফোন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান ইকরার ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেই জানা যাবে কে ইকরার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে এবং কথোপকথন মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে কি না। এছাড়া আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগস সেবনের বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি দাবি করেন ময়নাতদন্ত করার আগে একটি মহল এতে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল।

সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে আলভী তার স্ত্রীর অতীত নিয়ে মুখ খুলেছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে জানতে চান ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামের এক সহপাঠীর কী সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই ইকরাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছিল। স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় ইকরা সেই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন আলভী। পরে ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এলে আলভী তাকে ক্ষমা করে মেনে নেন।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে চরম শঙ্কা প্রকাশ করে আলভী জানান ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সহকর্মীদের বেইমানি হয়তো তাকে বাঁচতে দেবে না। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কাছে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণগুলো মিলিয়ে দেখার আকুতি জানিয়েছেন। পরিশেষে তিনি সবার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার