
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন ছেড়ে শিক্ষার্থীদের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার (৩ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির দেয়ালে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় সামান্য দুর্যোগেও ক্লাস বন্ধ করে বিকল্প স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার জানান, ঝড় শুরু হলে দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এদিকে, কয়েক মাস আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈনুল হক বিদ্যালয়ের জন্য একটি টিনশেড ঘর নির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। ওই বরাদ্দের ভিত্তিতে এলজিইডি প্রকৌশলী প্রাক্কলন প্রস্তুত করলেও পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম বরাদ্দটি বাতিল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, শিশুদের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জরুরি বরাদ্দ বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, “বিদ্যালয়টির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরাদ্দ বাতিলের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টিনশেড ঘর নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধান গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।