
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে গরু আক্রান্ত হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খামারি ও কৃষকরা। সরকারি হিসেবে আক্রান্ত পশুর সংখ্যা শতাধিক হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন ও ওষুধের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উপজেলার শৌলমারী গ্রামের খামারি আব্দুস সামাদ জানান, তার একটি গরু ইতোমধ্যে মারা গেছে। বাকি গবাদিপশু নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অন্যদিকে আরেক খামারি বলেন, প্রথমে একটি গরুর জ্বর, অরুচি ও মুখ দিয়ে লালা ঝরলেও বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় পরবর্তীতে আরও একটি গরু আক্রান্ত হয়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, অনেক খামারি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে না পারায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না নেওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।
রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় অন্তত শতাধিক গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত পাঁচটি পশুর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন নতুন করে কয়েকটি আক্রান্ত পশু চিকিৎসার জন্য আসছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান পাইকার ও ভেটেরিনারি সার্জন মো. রুবেল হোসাইন জানান, আক্রান্ত পশুকে ‘অটো হেমো থেরাপি’সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ খুবই কম। প্রায় এক হাজার পশুর বিপরীতে মাত্র একশ’ পশুর ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে রোগের সুযোগ নিয়ে কিছু ভুয়া চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা দিয়ে খামারিদের বিভ্রান্ত করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও চিকিৎসা গ্রহণ না করতে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত মশা-মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। তাই আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখা, গোয়ালঘর পরিষ্কার রাখা, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবর্তী রৌমারী উপজেলার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি ও গবাদিপশু নির্ভর। তাই খামারিদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করা হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে এলাকার সাধারণ মানুষ।