June 5, 2026, 5:03 pm
শিরোনাম :
ইউনিয়ন-পৌর নির্বাচন ঘিরে বদরগঞ্জ তাঁতী দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পারিবারিক কলহের জেরে মোরেলগঞ্জে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোক সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ইয়াবা জব্দ বান্দরবানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ৯ বসতঘর আধুনিক জালের দাপটে হারাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য কুড়িগ্রামে ভয়াবহ আগুনে ছাই ১০৫ দোকান, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা নারী হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ, সচেতনতা ও প্রতিরোধে জোর সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩, কন্যা আশঙ্কাজনক দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের নদীতে বাস, অল্পের জন্য বেঁচে গেল চালক-হেলপার

আধুনিক জালের দাপটে হারাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য

অভয়নগর প্রতিবেদক

কালের বিবর্তন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে দেশীয় মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম। একসময় গ্রামীণ জনপদের নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে পলো, চাঁই, খালই ও ডুলা হাতে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত পরিচিত। বর্তমানে আধুনিক জাল ও প্রযুক্তিনির্ভর মাছ ধরার সরঞ্জামের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এসব লোকজ উপকরণের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
সম্প্রতি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় বাঁশ ও বেতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রি করতে দেখা যায় স্থানীয় এক কারিগরকে। তবে একসময় ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন এসব পণ্যের বাজার এখন অনেকটাই সংকুচিত। ক্রেতা কমে যাওয়ায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় কারিগরদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম এলেই আগে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবার পলো, চাঁই ও অন্যান্য মাছ ধরার সরঞ্জাম সংগ্রহ করত। এসব বিক্রি করে তারা ভালো আয় করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে রিং জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামের সহজলভ্যতা দেশীয় উপকরণের বাজারকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু আধুনিক প্রযুক্তিই নয়, দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়াও এ সংকটের অন্যতম কারণ। নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, জলাশয় ভরাট, পরিবেশ দূষণ এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা ও গজারের মতো দেশীয় মাছ এখন আগের তুলনায় অনেক কম পাওয়া যায়।
স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, একসময় দলবেঁধে পলো বা চাঁই দিয়ে মাছ ধরা ছিল গ্রামীণ জীবনের এক আনন্দঘন আয়োজন। মাছ ধরা শেষে সবার মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় হতো। বর্তমানে সেই চিত্র প্রায় হারিয়ে গেছে।
লোকজ সংস্কৃতি গবেষকদের মতে, এসব সরঞ্জাম শুধু মাছ ধরার উপকরণ নয়; এগুলো গ্রামীণ ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা লোকজ জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশীয় মাছের আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা গেলে হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ ঐতিহ্যকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় গ্রামীণ বাংলার শত বছরের এই ঐতিহ্য একসময় শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।



ফেসবুক কর্নার