
নেত্রকোনার মদন উপজেলার এক ছাত্রদল নেতা প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। কনের বাড়িতে বিয়ের আসরেই তার গোপন বিয়ের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। পরে গণধোলাই ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে কনে পক্ষের কাছ থেকে মুক্তি পান তিনি।
ঘটনাটি শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামে ঘটে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম সাব্বির আহমেদ সাদান। তিনি মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আয়মনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন সাদান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসার চললেও বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়। শুক্রবার তিনি প্রথম বিয়ের তথ্য আড়াল করে বরযাত্রী নিয়ে কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতির মেয়েকে বিয়ে করতে যান।
এদিকে দ্বিতীয় বিয়ের খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রীর পরিবার কনে পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে কনের বাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা বর ও তার সঙ্গীদের আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা বৈঠকের পর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জরিমানা দিয়ে ফেরার পর শনিবার (১৩ জুন) ক্ষুব্ধ হয়ে সাদানের অনুসারীরা প্রথম স্ত্রী আয়মনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আয়মনার বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে কনের বাবা, যিনি স্থানীয় ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি, বলেন, “ছেলেটির আগে বিয়ে হয়েছে—এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না। জেনেশুনে কোনো বিবাহিত ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
অন্যদিকে অভিযুক্তের বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ দাবি করেন, “ছেলের প্রথম বিয়ের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। আগে জানলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হতো না।”
মদন থানার ওসি (তদন্ত) অসীম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বিয়ে-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন নারী আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।