July 1, 2026, 10:04 pm

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির ঠিকাদারিতে থানা ভবন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্নিগ্ধা খন্দকার,স্টাফ রিপোর্টার পঞ্চগড়

হত্যাচেষ্টা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও পঞ্চগড় সদর থানার নতুন ভবন নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার আব্দুল হান্নান শেখের বিরুদ্ধে। উচ্চ আদালতের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করলেও তিনি প্রকাশ্যে সরকারি প্রকল্পের কাজ তদারকি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান শেখ গত ৪ মে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। আদালত তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা এবং মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি বা প্রভাবিত না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের আদেশের অনুলিপি গত ৩ জুন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছায়। তবে আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার বাদীপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আব্দুল হান্নান শেখ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তদারকি করছেন। এমনকি পঞ্চগড় সদর থানার নির্মাণাধীন নতুন ভবনের ঠিকাদার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার বাদী বলেন, উচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন দিলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেননি। এরপরও তিনি প্রকাশ্যে সরকারি কাজ করছেন। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা হতাশ এবং আইনের সমান প্রয়োগ প্রত্যাশা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, “আমি এখনো জামিন হইনি। আমি বিনা জামিনে রয়েছি। জামিন হলে সেখানে স্বাক্ষর দিতে হয়, আমি কোনো স্বাক্ষর দিইনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চগড় আদালতের এক আইনজীবী বলেন, আগাম জামিন স্থায়ী জামিন নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন না করলে উচ্চ আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আর কার্যকর থাকে না। এরপর মামলার আইনগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি আদালতের শর্ত অনুযায়ী আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকে, তাহলে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে সরকারি প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন? বিশেষ করে থানার নতুন ভবনের মতো একটি সরকারি স্থাপনার নির্মাণকাজে তার সম্পৃক্ততা এবং তাকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।



ফেসবুক কর্নার