July 9, 2026, 8:22 pm

টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহাল, আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজারের বেশি মানুষ

সর্বজিৎ চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের পর বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা এখনও কাটেনি। পাহাড়ের মাটি নরম থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ১৫৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাউখালী উপজেলায় ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙ্গামাটি সদরে ১০টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ঘটনায় সড়ক ও বসতঘরের আশপাশে মাটি ধসে পড়লেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীরা কয়েকদিন ধরে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও এখনও কিছু মানুষ বসতভিটা ও গবাদিপশুর মায়ায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। প্রশাসন তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৭ মিলিমিটারে।
অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে বর্তমানে প্রায় ৫০০ পর্যটক অবস্থান করছেন। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও বেইলি ব্রিজ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটক ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি পৌরসভার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এ সময় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্গতদের মাঝে খাবার, শিশুদের জন্য দুধ, খেজুর ও বিস্কুট বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানান।
এর আগে বুধবার রাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, পাহাড়ি জেলার দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙ্গামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন এবং খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও পাহাড়ের মাটি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান এবং পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।



ফেসবুক কর্নার