
মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভয়াবহ চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩১৯টি ডাক্তার পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১৫ জন। অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ পদই শূন্য, ফলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই সংকটে জেলার প্রায় ২৭ লাখ মানুষের চিকিৎসা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বদলগাছী, মান্দা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে একাধিক বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই নেই।জানা গেছে, নওগাঁ জেলা সদরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও একই চিত্র বিরাজ করছে। কাগজে এটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও, বাস্তবে ১০০ শয্যার মতো জনবল ও সরঞ্জাম রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ভর্তি থাকেন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী, অথচ ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৩৫ জন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছি। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সহযোগিতায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে, তবে স্থায়ী নিয়োগ ছাড়া সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে এবং নতুন পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে রোগীরা অভিযোগ করেছেন, এক জন ডাক্তারকে দিনে ৫০-৬০ জন পর্যন্ত রোগী দেখতে হয়, ফলে চিকিৎসার মান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না করলে নওগাঁর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়বে।