সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ফের নাশকতার পরিকল্পনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিনটি আলোচিত গোষ্ঠী—ইদ্রিস বাহিনী, মুজিবর বাহিনী ও ছাবের বাহিনী—আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব বাহিনী সাবেক সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শ্যামনগরের আংশিক-০৪ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির ছক কষছে এই তিন বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক এমপি জগলুল হায়দার সেখান থেকেই অনুসারীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী বাহিনীগুলোকে পুনরায় সংগঠিত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মুজিবর বাহিনীর একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একইভাবে ইদ্রিস বাহিনী ও ছাবের বাহিনীর বিরুদ্ধেও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অবৈধ অর্থ আদায় এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব বাহিনীর বহু সদস্যের নাম ও পরিচয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুপরিচিত হলেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি নাশকতা মামলায় কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ইদ্রিস বাহিনীর প্রধান ইদ্রিস মোড়লকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তিন বাহিনীর তৎপরতা নতুন করে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতার এমন প্রস্তুতি গণতন্ত্র ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠলেও ইদ্রিস–মুজিবর–ছাবের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন,
“অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন—তদন্তের নামে এই নীরবতা আর কতদিন?
শ্যামনগরে নাশকতার ছক কি তবে প্রশাসনের চোখের সামনেই বাস্তবায়নের অপেক্ষায়?