March 6, 2026, 2:48 am
শিরোনাম :

নাব্য সংকটে আটকা ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’: ভোগান্তির শেষ কোথায়?

কে এম জাকির কুড়িগ্রাম

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটটি এখন যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের নাব্য সংকটের কারণে এই রুটে চলাচলকারী ফেরি ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় ফেরি দুটির তলা নদীর বালুচরে আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
থমকে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা
রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এই ফেরি সার্ভিস। ফেরি বন্ধ হওয়ায় দুই পাড়ে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিকল্প হিসেবে নৌকা বা ট্রলার ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, সাথে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
কেন এই বারবার স্থবিরতা?
ব্রহ্মপুত্রের ড্রেজিং বা খনন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই নাব্য সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে যে:
চ্যানেল চিহ্নিতকরণে ত্রুটির কারণে ফেরিগুলো বারবার ডুবোচরে আটকা পড়ে।
জনজীবনের ভোগান্তি
একজন নিয়মিত যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “ফেরি চালু হওয়ার পর আমাদের আশা ছিল যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু সামান্য পানি কমলেই ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। এটা যেন এক ‘আসা-যাওয়ার’ খেলা।” অন্যদিকে ট্রাক চালকদের অবস্থা আরও করুণ; ঘাটে দিনের পর দিন বসে থেকে তাদের খরচ বাড়ছে, অথচ আয়ের পথ বন্ধ।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
চিলমারী বন্দরকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে স্বপ্ন সরকার দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়নে এই নৌ-পথ সচল রাখা অপরিহার্য। নাব্য সংকট কাটাতে কেবল সাময়িক ড্রেজিং নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকর ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেল পরিষ্কার করে ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি দুটিকে পুনরায় চালু করা। তা না হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও স্থবির হয়ে পড়বে



ফেসবুক কর্নার