April 24, 2026, 5:23 pm
শিরোনাম :
পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে মাদক আসর, আতঙ্কে মণিরামপুরের স্থানীয়রা জকসুকে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিবাদ ছাত্রদল-সমর্থিত প্রতিনিধিদের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক অষ্টঘরিয়ায় পাপ্পু ক্রীড়া চক্রের ফুটবল টুর্নামেন্টে বাহাদিয়া ক্লাবের জয় কলেজের শিক্ষিকাকে পেটানো ও ভাঙচুরের ঘটনা’য় বিএনপি নেতাকে-বহিষ্কার ওয়ারিশ গোপন করে জমি বিক্রির অভিযোগ, কালীগঞ্জে প্রতারণার শিকার ক্রেতা আধুনিকতার পিঠে মধ্যযুগ: রৌমারীতে জ্বালানি সংকটে ফিরছে ‘ঢেঁকি কল’ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে উঠে আহত বহু যাত্রী আইডি যাচাইয়ে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পেয়ে স্বস্তিতে চুয়াডাঙ্গর কৃষকরা উত্তরায় রেস্টুরেন্ট ও বারে পুলিশের অভিযান, নারী-পুরুষসহ ১৪০ জন আটক

যুক্তরাষ্টের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি অর্থনীতি-কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ভিত্তি

অভয়নগর প্রতিবেদক

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া নয়টায় জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক সুবিধা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কভার রেসিপরোকাল ট্যারিফ ৩৭ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে কমে এসেছে।

এই চুক্তির বিশেষ দিক নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন— যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা। এটা একটা মস্ত বড় সুবিধা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশি পোশাক আরও কম দামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে; যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারের ফলে আমাদের সরবরাহ চেইন আরও বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল হবে; এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে উচ্চমূল্যের ও উন্নতমানের পণ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

এদিবে জাপানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত টেকসই, বৈচিত্র্যময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি একটি ঐতিহাসিক ও কৌশলগত অগ্রগতি। এই অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুফল হলো উৎপাদন ও রফতানি বহুমুখীকরণ।

‘জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, রেলওয়ে সরঞ্জাম, গ্রিন টেকনোলজি এবং উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে যুক্ত হতে পারবে। এতে আমাদের ঝুঁকি কমবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলো আমাদের দেশে বিনিয়োগ করবে শুধু জাপানে শুল্কমুক্ত রফতানির সুবিধা গ্রহণ করার জন্য’— যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমরা চীনের সাথে আমাদের উন্নয়ন সহযোগিতা গভীরতর করেছি। গত বছর মার্চে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে আমরা দু’দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুর্নবাসন প্রকল্পের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরিতে দু’দেশ একমত হয়েছে, এ কাজটি আমরা এগিয়ে নিতে পেরেছি।

তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে তিনটি বিষয়ের কোনো বিকল্প নেই— শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সততা।



ফেসবুক কর্নার