
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে—দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি আদৌ স্বাভাবিক হয়েছে?
একদিকে, আন্দোলনের সময় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অন্যদিকে, সরকার পরিবর্তনের পর থানায় হামলা, অস্ত্র লুট এবং মব কালচারের ঘটনায় এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে পুলিশ। মনোবল ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং আইন প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। নিজ দেশের শিশু, তরুণ ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন, গুলি ও হত্যার ঘটনা বহুবছর স্মরণে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।
চব্বিশের ৫ আগস্ট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ক্ষুব্ধ জনতা দেশের বিভিন্ন থানায় অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়াও লুট হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। সেসময় প্রাণ বাঁচাতে অনেক পুলিশ সদস্য আত্মগোপনে চলে যান।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের মনোবল ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এর মধ্যেই মব কালচার এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সবাই নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় থাকলেও এখনও পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
বর্তমানেও আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছে পুলিশ। গুলি ও হত্যার ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি, থানা থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমাদের সবার মধ্যে আইন মানার প্রবণতাটা একটু কম। পুলিশ ন্যূনতম বলপ্রয়োগে বিশ্বাসী এবং জনগণের আইন মানার প্রবণতা বাড়লে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব। এছাড়া, পরিস্থিতি যাই হোক, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পথে না গিয়ে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীর চেইন অব কমান্ড এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশকে কার্যকরভাবে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পদায়ন ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করতে হবে