
মোংলায় বন-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমানো এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে উন্নত চুলা (আইসিএস) বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়মনি এলাকায় অবস্থিত ওয়াইল্ডটিম কনজারভেশন বায়োলজি সেন্টারে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াইল্ডটিমের আয়োজনে জয়মনি গ্রামে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস, চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন হাওলাদার এবং ওয়াইল্ডটিমের প্রতিনিধি আবু জাফর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উন্নত চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। এতে কম কাঠে রান্না করা যায়, ধোঁয়া কম উৎপন্ন হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পায়। পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর জ্বালানি কাঠের চাপও কমবে। তিনি অবৈধভাবে সুন্দরবন থেকে কাঠ সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান।
জয়মনি সুন্দরবনের নিকটবর্তী একটি বন-প্রান্তিক এলাকা, যেখানে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা বেশি। উন্নত চুলা ব্যবহারের ফলে পরিবারগুলোর সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আয়োজকরা জানান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০২৫ মেয়াদে কেএফডব্লিউ ও আইইউসিএনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ইন্টিগ্রেটেড টাইগার হ্যাবিটেট কনজারভেশন প্রোগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সহায়তায় পরিচালিত কার্যক্রমে বেইসলাইন ও এন্ডলাইন পরিমাপে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সোলার লাইটিং স্থাপন এবং সাতক্ষীরায় ৩টি টাইগার টলারেন্ট ভিলেজ চিহ্নিত করা হয়েছে।
ওয়াইল্ডটিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে ১,০০০টি এবং চলতি বছরে ২০০টি উন্নত চুলা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।