March 6, 2026, 2:47 am
শিরোনাম :

জামালগঞ্জে ছাত্রী হোস্টেলে ‘যৌন উপকরণ’ পাওয়ার অভিযোগে দিনভর বিক্ষোভ, দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

অভয়নগর প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ‘যৌন উপকরণ’ পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে কক্ষে রেখে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তালা খুলে দেওয়া হলেও দরজার সামনে অবস্থান নিয়ে তারা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। বিকেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর একটি দল ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কিছু কনডমের প্যাকেট পাওয়া গেছে বলে কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। বিকাল পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভকারীরা ছাত্রী হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। তাদের দাবি, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, হোস্টেলের ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আগে থেকেই নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও প্রতিবাদ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, “ঘটনাটি দায়িত্বশীলরা আগেই সমাধান করতে পারলে ভালো হতো। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে হোস্টেলের দায়িত্ব থেকে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



ফেসবুক কর্নার