June 7, 2026, 10:20 am
শিরোনাম :
মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ফসলি জমিতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, হরিণাকুন্ডুতে ক্ষোভ কৃষকদের দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আজাদী মঞ্চের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা তুচ্ছ বিরোধে লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের ওপর হামলার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ৭৬ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

লামার মিরিঞ্জা পাহাড়ে ভূমি দখল নিয়ে উত্তেজনা: উচ্ছেদ আতঙ্কে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

রাসেল লামা বান্দরবান

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পাহাড় এলাকায় পর্যটন ব্যবসার নামে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জমি দখল ও অবৈধ রিসোর্ট নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালী মহলের ভূমি দখলের অপচেষ্টায় মিরিঞ্জা বাগান পাড়ার ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরিঞ্জা ভ্যালি ও আশপাশের পাহাড়গুলোতে পর্যটনের প্রসারকে কেন্দ্র করে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি স্থানীয়দের পৈতৃক ভিটা ও শ্মশানের জমি দখলের চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পাহাড়ের ঢালে দ্রুতগতিতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজ। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।
মিরিঞ্জা বাগান পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত শ্মশান ও বসতভিটা ঘেরাও করে রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কার্বারি (পাড়া প্রধান) জানান, ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ের খাড়া ঢালে কোনো ধরনের রিটেইনিং ওয়াল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বহুতল কাঠ ও টিনের কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগে পাহাড় কাটার দায়ে কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
লামা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভূমি বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, পাহাড়ের পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।



ফেসবুক কর্নার