June 7, 2026, 9:13 am
শিরোনাম :
মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ফসলি জমিতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, হরিণাকুন্ডুতে ক্ষোভ কৃষকদের দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আজাদী মঞ্চের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা তুচ্ছ বিরোধে লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের ওপর হামলার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ৭৬ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

জ্বালানি সংকটে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, কালোবাজারিতে চড়া দাম

অতনু বিশ্বাস

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এসব জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পেতে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে নামমাত্র তেল, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। পাম্প কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল সরবরাহ করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ড্রাম ও বোতলে করে একসঙ্গে কয়েকশ লিটার তেল সংগ্রহ করছেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতেও এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অবৈধভাবে সংগ্রহ করা এসব তেল পরে খোলা বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেন প্রতি লিটার ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ডিজেল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেল সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিয়ম রয়েছে। এক জেলার জন্য বরাদ্দকৃত ট্যাংক লরি অন্য জেলায় চলে যাওয়ার পাশাপাশি পথে তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরিমাণ ঠিক রাখতে তেলে পানি মেশানোর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যানবাহনের ইঞ্জিন বিকলের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও কর্মজীবী মানুষ। সেচ মৌসুমে ডিজেল সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেচ পাম্প চালাতে না পারায় ফসলি জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন চালকরা পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিয়মিত অভিযান ও সরবরাহ ব্যবস্থার কঠোর নজরদারি না থাকলে সংকট আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে মাগুরা ও ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।



ফেসবুক কর্নার