June 29, 2026, 10:53 pm
শিরোনাম :
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল দীর্ঘ দুই মাস পর নওগাঁ সদর হাসপাতালে ফের চালু হচ্ছে চক্ষু চিকিৎসা সেবা শৈলকূপায় পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে দীপু মনি জন্মদিনে রুক্মিনীকে নিয়ে দেবের প্রেমময় পোস্ট অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী চার বছরেও শেষ হয়নি বংশী নদীর সেতু, নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা; চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল কালীগঞ্জে এলজিইডি অফিসে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ, সিও রেজাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় যেতে গিয়ে হামলার শিকার কিশোরীসহ মা-বাবা, হাসপাতালে ভর্তি

হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, শিশুদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে আক্রান্ত

অভয়নগর প্রতিবেদক

পাবনায় হাম ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে হাম আক্রান্ত ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট তীব্র হওয়ায় একটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন রোগীকে রাখতে হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের বারান্দার কাঁচঘেরা কক্ষেও শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আক্রান্তদের স্বজনরা হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন জানান, তার চার মাস বয়সী সন্তানের প্রথমে জ্বর ও ঠান্ডা দেখা দেয়, পরে শরীরে লালচে দাগ ওঠে। হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, তার ৯ মাস বয়সী নাতির জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রফিকুল হাসান জানান, হাম ভাইরাসে যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমানে চিকিৎসা দিতে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও শিশু ওয়ার্ডে ৩৮টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগীর চাপ থাকায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন একটি হাম ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৩৩ জনের শরীরে হাম ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন শিশু মারা গেছে। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ে পরীক্ষা সুবিধা না থাকায় রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে, যার ফল পেতে প্রায় সাত দিন সময় লাগছে।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিবছর হাম সংক্রমণ দেখা গেলেও এ বছর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। ইতোমধ্যে জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।



ফেসবুক কর্নার