April 23, 2026, 4:21 pm
শিরোনাম :
বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ শেরপুরে জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শিক্ষকম্পতিকে লাঞ্ছনার অভিযোগ কমলনগরে ‘খলিল বাহিনী’ আতঙ্ক: ধর্ষণচেষ্টা, চুরি-ডাকাতির অভিযোগে উত্তাল জনপদ দেড় মাস ধরে আদালত চত্বরে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীরা নলডাঙ্গায় আগুনে কৃষকের ৮টি ছাগল পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ২ লাখ টাকা

দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

মিজানুর রহমান সাগর

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর জিউধরা ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির হাওলাদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না এসেও বেতন তুলছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে “সান্টু” নামে এক ব্যক্তি মাঝে মধ্যে ক্লাস নেন, যিনি বিদ্যালয়ের কোনো অনুমোদিত শিক্ষক নন। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে ছয়টি। তবে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন মাত্র দুইজন। অনেক সময় একজন শিক্ষককে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে একটি কক্ষে পাঠদান করতে হয়। বর্তমানে প্রায় ৭৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই শিক্ষক সংকট শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায়ই নিজের ইচ্ছামতো ছুটি নেন এবং কখনও হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান।
এদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ১৯৭১ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষে ভাঙা আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষেও নেই প্রয়োজনীয় আসবাব। খালের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ দুইতলা ভবনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে, যা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান জানায়, চলতি বছরে প্রধান শিক্ষক মাত্র দুই দিন স্কুলে এসেছেন। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফুর রহমান বর্ণ বলে, “একসঙ্গে কয়েকটি শ্রেণির ক্লাস হওয়ায় আমরা ঠিকমতো পড়তে পারি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা নাসির শেখ বলেন, “প্রধান শিক্ষক ছাড়া একটি স্কুল কিভাবে চলে? একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শান্তনা আক্তার বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষককে খুব কমই দেখেছেন। তার অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নাসির হাওলাদার বলেন, বিভিন্ন মামলা ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকতে পারেন না।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. শেফাইনূর আরেফীন জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে



ফেসবুক কর্নার