April 24, 2026, 1:41 am
শিরোনাম :
ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: দুই কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন ও অনিয়মে দিশেহারা সাধারণ মানুষ!!

অতনু বিশ্বাস

​ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এক চরম অরাজকতায় রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। শহরের প্রতিটি পাম্পের সামনে এখন তেলের জন্য অপেক্ষমাণ বাইক এবং যানবাহনের দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি পুরো দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ পেশাজীবীরা, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মজীবনে।
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সংকটের মূলে রয়েছে এক শ্রেণির অসাধু মজুতদার ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থির করে তুলেছে। অন্যদিকে, পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উঠেছে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। দীর্ঘ লাইনে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করলেও পেছনের দরজা দিয়ে প্রভাবশালী ও পরিচিতদের জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। আর, অল্প কয়েকজন যাও পাচ্ছে, সেটাও সঠিক পরিমাণে পাচ্ছে না। ১০০০টাকার তেল নিলে দিচ্ছে ৮০০টাকার! ২০০টাকায় মেরে খাচ্ছে। বিশেষ করে- রেজাউল, পায়রা চত্বর, তাজ এবং শহরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে একই অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ। কর্মকর্তারা নামমাত্র কিছু পাম্প পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় অনিয়মের মহোৎসব। এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেও অনেক সময় প্রভাবশালীদের দাপটে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
​অন্যান্য জেলায় জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ এবং সুশৃঙ্খল বণ্টন ব্যবস্থা চালু হলেও ঝিনাইদহে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে প্রশ্ন তুলছেন, এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল লোকদেখানো তদারকি নয়, বরং পাম্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান এখন সময়ের দাবি।



ফেসবুক কর্নার