
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি ও পরিবহন খাত। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেল গন্তব্যে না পৌঁছে মাঝপথেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলায় কোনো সরকারি বা বেসরকারি পেট্রোল পাম্প না থাকায় স্থানীয়রা খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দোকানগুলোতে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক, পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে বোরো মৌসুম চলায় সেচ পাম্পের জন্য ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় কৃষক মহিউদ্দিন জানান, “সেচ দিতে না পারলে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। দোকানে গেলে তেল নেই বলা হয়, অথচ বেশি দামে অন্যত্র তেল পাওয়া যাচ্ছে।”
অন্যদিকে পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা জানান, তজুমদ্দিনে পেট্রোল পাম্প না থাকায় অন্য উপজেলায় গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল নেই। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতি সপ্তাহে তেলের লরি এলেও তাদের কাছে যথাযথ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে তেলের লরি এলেও অল্প পরিমাণ তেল সরবরাহ করে বাকিটা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওলাদার ট্রেডার্স জানায়, অন্য একটি উপজেলায় লাইসেন্সজনিত জটিলতার কারণে কিছু তেল সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাকি তেল তজুমদ্দিনে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের কাজেও কিছু তেল ব্যবহৃত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে।
অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান, তজুমদ্দিনের জন্য বরাদ্দ তেল তাদের উপজেলায় সরবরাহের বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি। বরাদ্দকৃত তেল গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না কেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।