
একসময় গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত কামার সম্প্রদায় এখন চরম সংকটের মধ্যে দিন পার করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকতার প্রভাবে তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এ পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষরা।
জানা গেছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু কামার পরিবার বসবাস করছেন। তারা লোহা দিয়ে দা, ছুরি, কোদাল, কাস্তে, বটি ও কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য কারখানায় তৈরি পণ্যের কারণে তাদের তৈরি পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় কামারদের ভাষ্য, বছরে কেবল ঈদুল আজহাকে ঘিরেই কিছুটা কাজের চাপ বাড়ে। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ছুরি, চাপাতি ও দা তৈরির অর্ডার আসে। কিন্তু ঈদের পর দীর্ঘ সময় কাজ না থাকায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় কামার বীরেন সাহা বলেন, “আগে সারা বছর কাজ থাকত, এখন ঈদের সময় ছাড়া বসে থাকতে হয়। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরি বা অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
এদিকে, নতুন প্রজন্মও এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। তারা মনে করছে, এই পেশায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করা গেলে এ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ঋণ ও যন্ত্রপাতি সহায়তা পেলে কামাররা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী পেশা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।