
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলায় টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেলের সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। পাম্পে তেল না থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুৎ সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রৌমারীর একমাত্র ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন ও রাজিবপুরের মিনি পাম্পে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। মোটরসাইকেল নির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের ধীরগতির বিকল্প বাহনে নির্ভর করতে হচ্ছে।
এদিকে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সেচ কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের পাশাপাশি তেলের অভাবে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। কৃষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংকটের কারণ নিয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, কার্ড বিতরণের সঙ্গে তেল বিক্রির কোনো সম্পর্ক নেই এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিগগিরই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে এমন দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট জনজীবন ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।