জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) টিএসসি সংলগ্ন এলাকায় জমির মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড টিএসসি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা চালায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন টিএসসি এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি “এই জমির মালিক বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লি.” লেখা একটি সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাইনবোর্ড স্থাপনে বাধা দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, টিএসসি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে হঠাৎ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ অবস্থান জরুরি।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের নেতা মেহেদী হাসান হিমেল বলেন,
“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্র টিএসসি। এখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের একতরফা মালিকানা দাবি আমরা মেনে নেব না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী যেকোনো দখলচেষ্টা ছাত্রদল প্রতিহত করবে। প্রশাসনকে দ্রুত বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি কোনো আইনি জটিলতা থেকে থাকে, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে আলোচনা ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কিন্তু হঠাৎ সাইনবোর্ড টানিয়ে দখলের পরিবেশ তৈরি করা অগ্রহণযোগ্য।”
ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরেফিন বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে জানাক—টিএসসির জায়গার প্রকৃত অবস্থা কী এবং কারা এখানে মালিকানা দাবি করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিষয়টি কেবল জমির মালিকানা বিরোধ নয়; বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিসর এবং ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িত। তাদের মতে, প্রশাসনের উচিত দ্রুত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করা।
এদিকে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিয়েও নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।