June 26, 2026, 6:08 pm

এক শিক্ষকে চলা বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষক পদায়ন, যোগ দিলেন না কেউ

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন শিক্ষিকা দিয়ে পাঠদান পরিচালিত হওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর তিনজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে পদায়নের আদেশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে নির্ধারিত দিনেও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন শিক্ষিকা দিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছিল। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও শিক্ষা প্রশাসনের কিছু অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা তৈরি হয়।
এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, বড় খাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম এবং পশ্চিম বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিনকে সাময়িকভাবে উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, তাদের ১৪ মে ২০২৬ তারিখে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার কথা ছিল এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে কোনো শিক্ষকই বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ। তিনি বলেন, “তিনজন শিক্ষক দেওয়ার আদেশ হয়েছে, কিন্তু কেউ এখনো যোগদান করেননি। আদেশের কপিও আমি হাতে পাইনি। শুনেছি, তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ।”
এদিকে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোছাঃ সেলিমা পারভীন জানান, পদায়নকৃত শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান একাধিকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ শিক্ষককে দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।”
বিষয়টি জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “তিনজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে। যোগদান না করার কারণ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানা যাবে।”
স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার