July 23, 2026, 8:44 pm
শিরোনাম :
নোয়াখালীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সরকারি জমি দখল, অবৈধ দোকানে বাড়ছে দুর্ভোগ তিশার হাত ধরে এএইচএফ জুনিয়র কাপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শিরোপা সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত, এক বছরে ২৯৪ মামলায় গ্রেপ্তার ৩৯৬ ইউপি সদস্যসহ তিন জুয়াড়ি আটক ভূরুঙ্গামারীতে ৪ ভারতীয় গরুসহ ৫ চোরাকারবারি আটক, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এরার কাচ্চি ঘরের খিচুড়িতে পাওয়া গেল কেন্নো, স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে পঞ্চগড়ে জুলাই শহীদ পরিবারের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ মাসে চারবার চুরি, শিক্ষার পরিবেশ বিপর্যস্ত

স্পেনের বিশ্বকাপজয় থেকে ব্রাজিল পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারে

অভয়নগর প্রতিবেদক

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে এই সাফল্য শুধু একটি শিরোপা জয়ের গল্প নয়, বরং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিকতা এবং সুস্পষ্ট খেলার দর্শনের ফল। অন্যদিকে, শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে বিদায় নেয়া ব্রাজিলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে এই স্প্যানিশ মডেল।
স্পেনের বিশ্বকাপজয় থেকে ব্রাজিল যেসব পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারে। ব্রাজিলের গণমাধ্যম ও’ গ্লোবোর প্রতিবেদনে বিষয়গুলো উঠে এসেছে
স্পেন বহু বছর ধরে বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে সিনিয়র দল পর্যন্ত একই ধরনের ফুটবল দর্শন অনুসরণ করে আসছে। বলের দখল, দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং সঠিকভাবে জায়গা তৈরি করা তাদের খেলার মূল বৈশিষ্ট্য।
২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও পেদ্রির মতো খেলোয়াড়রা এই দর্শনের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখনও নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে ফিরছে। দলটি বিভিন্ন ফরমেশন বদলালেও স্থায়ী খেলার পরিচয় গড়ে তুলতে পারেনি।
মিডফিল্ডই দলের প্রাণ
স্পেনের সাফল্যের বড় ভিত্তি ছিল তাদের শক্তিশালী মিডফিল্ড। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আর তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেছেন পেদ্রি, দানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইস। অন্যদিকে, ব্রাজিল এখনও বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড ও ডিফেন্ডার তৈরি করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম সৃজনশীল মিডফিল্ডার তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে।
রক্ষণও শুরু হয় বলের দখল থেকে
বিশ্বকাপে সেরা রক্ষণভাগ ছিল স্পেনের। তবে তাদের মূল শক্তি ছিল বলের দখল ধরে রাখা। ম্যাচের বড় সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দিয়েছে। ব্রাজিলের দলে মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাদের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়েছে। স্পেন দেখিয়েছে, শক্তিশালী রক্ষণ কেবল ডিফেন্ডারদের ওপর নির্ভর করে না, পুরো দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সই আসল।
কোচিংয়ে ধারাবাহিকতা
লুইস দে লা ফুয়েন্তে সিনিয়র দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে এক দশকেরও বেশি সময় স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে তিনি খেলোয়াড়দের খুব ভালোভাবে চিনতেন এবং এই প্রজন্মের বিকাশে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। ব্রাজিল ভিন্ন পথে হেঁটেছে। ইউরোপীয় ফুটবলে সফল হলেও জাতীয় দলের কাঠামোর সঙ্গে পূর্ব পরিচয় না থাকা কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দিয়েছে সিবিএফ। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
তারকার চেয়ে দল বড়
স্পেন দলে লামিনে ইয়ামালের মতো অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার থাকলেও পুরো দল কখনোই একজনের ওপর নির্ভর করেনি। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সমষ্টিগত ফুটবল। ব্রাজিল বরাবরই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। স্পেন দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ জিততে ব্যক্তিগত মেধার পাশাপাশি সুসংগঠিত দলীয় পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
২০০২ সালের পর ব্রাজিলের শিরোপা নেই। পাঁচটি বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিল ছয় আসরে শিরোপার কাছাকাছিও যেতে পারেনি। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও শিরোপার স্বাদ পায়নি। এ সময়ে বহু তারকা খেলেছেন। কিন্তু ব্রাজিলের ধ্রুবতারা হতে পারেননি কেউ। কেউ পারেননি হেক্সা পূরণ করতে।
স্পেন যে মডেল অনুসরণ করে সফল হয়েছে সেটাই ব্রাজিলের জন্য উপযুক্ত হবে এমনটা নয়। ব্রাজিলের জন্য নিজেদের তৈরি মডেলই হবে সেরা। সেই সেরা মডেল বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের।



ফেসবুক কর্নার