July 29, 2026, 9:43 pm

সিও এনজিওর বিরুদ্ধে নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও জামানত বাণিজ্যের অভিযোগ

ফাওজুর রহমান সাবিত, স্টাফ রিপোর্টার:

ঝিনাইদহের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোশ্যাল ইম্পাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ইফোর্ট অর্গানাইজেশন (সিও)–এর বিরুদ্ধে সাবেক এক শাখা ব্যবস্থাপককে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়, ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া, বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক এ বি এম মাহবুব রহমান।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মাহবুব রহমান জানান, তিনি ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর সিও এনজিওর ফরিদপুর সদর শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন। তার দাবি, শাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘন ঘন বদলির কারণে ঋণের কিস্তি আদায়ে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে। চাকরি রক্ষার জন্য পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা এনে জমা দিলেও বাকি অর্থের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং আট লাখ টাকার দায় স্বীকারে চাপ দেওয়া হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং কয়েকটি সাদা কাগজ, স্ট্যাম্প, চেক ও অন্যান্য নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ওই নথি ব্যবহার করে ২৯ লাখ টাকার দাবি দেখিয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাহবুব রহমানের দাবি, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। চিকিৎসা নথিতে তার খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে ক্ষয়কারী পদার্থের কারণে আঘাতের তথ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে তিনি পরিবার ও শিশু সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে আত্মগোপনে থেকে ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ মার্চ মাহবুব রহমানসহ সিও এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সিও এনজিওর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। সে সময় সাংবাদিকদের কাছে একটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়, যেখানে মাহবুব রহমানকে সুস্থ অবস্থায় দেখানো হয়। তবে মাহবুব রহমানের দাবি, ভিডিওটি নির্যাতনের পর ভয়ভীতি প্রদর্শনের মধ্যেই ধারণ করা হয়েছিল।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) বিশেষ অডিট ও তদন্ত পরিচালনা করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত-সংক্রান্ত নথি পরিবর্তন করে আদালতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে চাকরির নামে জামানত গ্রহণ, ফাঁকা ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং চাকরি ছাড়তে চাইলে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক নারী কর্মকর্তা দাবি করেন, চাকরি ছাড়তে চাইলে অনেক ক্ষেত্রেই মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।
এছাড়া ঝিনাইদহে সিও এনজিওর ১০ তলা কেন্দ্রীয় কার্যালয় নির্মাণে ভবন নির্মাণবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক প্রকৌশলী (অব.) কমাল উদ্দিন বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে সীমিত প্রক্রিয়ায় ভবনটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে সিও এনজিওর পরিচালক শামছুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সবকটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।



ফেসবুক কর্নার