March 10, 2026, 3:00 pm
শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন বাকপ্রতিবন্ধী মার্মা তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: পাহাড়ে কি আইন সমান? ১৮ ফুট লম্বা অজগর ছাগল গিলে ফেলার পর সুন্দরবনে অবমুক্ত ইরানে ‌‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানো হবে আজ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কানাডায় মার্কিন দূতাবাসে গুলি প্রথমবার শুরু হচ্ছে নারী বিপিএল, বগুড়ায় সাজ সাজ রব মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি তেলের বড় চালান পেল পাকিস্তান জামিন পেলেন আ.লীগের সাবেক এমপি শাহ আলম সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দয়াল বাহিনীর সক্রিয় ডাকাত আটক স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

কুষ্টিয়া-৩ আসন: দুই প্রার্থীর হলফনামায় আয়–সম্পদের চিত্র, তবে বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেনের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া সদর (কুষ্টিয়া-৩) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামায় আয়–সম্পদের যে বিবরণ পাওয়া গেছে, সেখানে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার তুলনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের আয়–সম্পদের তথ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে তার নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক আয়, আয়-উৎস এবং পারিবারিক নির্ভরশীলতার তুলনায় টাকার পরিমাণ—এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী আমির হামজা পেশা হিসেবে ব্যবসা ও কৃষির কথা উল্লেখ করেছেন। তার হলফনামা অনুযায়ী মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কিছু বেশি। কৃষি থেকে বার্ষিক আয় ৫৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার কিছু বেশি। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হাতে নগদ ছিল মাত্র ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মতো এবং ব্যাংকে জমা ছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার কিছু বেশি। তার সম্পদ বিবরণীতে বড় কোনো অস্বাভাবিকতা বা অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের হলফনামায় সম্পদের যে চিত্র পাওয়া গেছে, সেটি স্বভাবতই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বুয়েট থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী এই প্রার্থীর দুই স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ মোট নির্ভরশীল সংখ্যা ৮ জন। হলফনামা অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের দিনই তার হাতে নগদ ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সাধারণ আর্থিক লেনদেনের বাস্তবতা বিবেচনায় এত বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ হাতে রাখা অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক বলেই মনে করছেন অনেকে।
এ ছাড়া কৃষি থেকে আয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, বাসা ও দোকান ভাড়া থেকে ৪৪ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয়েছে ৫৩ লাখ ২১ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু এই বিপুল ব্যবসায়িক আয়ের উৎস, ব্যবসার প্রকৃতি, কর পরিশোধের স্বচ্ছতা এবং অর্থের বৈধতার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা হলফনামায় না থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রে জমা রাখতে দেখা গেছে মাত্র আড়াই লাখ টাকার মতো অর্থ, অথচ হাতে নগদ ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার উপস্থিতি যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নির্বাচন কমিশনের যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জাকির হোসেনের সম্পদ বিবরণী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তারা নগদ অর্থের অস্বাভাবিক পরিমাণ, ব্যবসায়িক আয়ের বড় ফারাক এবং ঘোষিত সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও দলিলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশন চাইলে এসব তথ্য আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মত দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে আয়–সম্পদের হিসাব স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের হলফনামায় বিশেষ করে নগদ অর্থ এবং ব্যবসায়িক আয়ের অংশে গরমিল ও অসামঞ্জস্য আছে কি না—তা এখন নির্বাচনী আলাপ-আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার