লক্ষ্মীপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অনিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির সংখ্যা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী বাজার এলাকায়। এসব অবৈধ এজেন্সির কারণে সাধারণ যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি প্রতারণার ঝুঁকিতেও পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্দারী বাজারে মোট পাঁচটি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র “আল হেরা ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস” বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই বছরের পর বছর ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আল শামস ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (মান্দারী প্রেস), সাগরিকা স্টুডিও, এসকে ট্রাভেলস ও কাজী এন্টারপ্রাইজ।
ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক মালিক বা কর্মচারীর প্রকৃত ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার কোনো অবকাঠামোই নেই। কেউ ফটোকপি ও টাইপিং দোকানের আড়ালে, আবার কেউ স্টুডিও বা ছোট ব্যবসার আড়ালে ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা ঢাকার বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে টিকিট সংগ্রহ করে স্থানীয় যাত্রীদের কাছে তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।
এতে করে যাত্রীরা দ্বিগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রথমত, তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, কোনো জটিলতা দেখা দিলে এসব অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত।
একজন ভুক্তভোগী যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমি মান্দারী বাজারের একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সৌদি আরবের টিকিট কিনেছিলাম। ঢাকায় গিয়ে দেখি টিকিটে ভুল আছে। তখন ওই এজেন্সির লোক ফোন রিসিভই করেনি। পরে অনেক কষ্টে আবার নতুন করে টিকিট কাটতে হয়েছে।”
আইন অনুযায়ী, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতে পারে না। অথচ প্রকাশ্যেই এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, অবিলম্বে এসব অনিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো জরুরি। না হলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হতে থাকবে এবং বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।