June 24, 2026, 8:44 am
শিরোনাম :
নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যা: নয় মাস পর ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত, দুই আসামি গ্রেপ্তার হরমুজে আটকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেধা ও যোগ্যতার কঠিন পরীক্ষায় নওগাঁয় ক্যাডেট এএসআই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৬ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র নোয়াখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি মৃত্যুই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য: পিয়া জান্নাতুল জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

কোটি টাকার গোপন চুক্তিতে সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের ভারত পলায়ন: সহযোগিতার অভিযোগ শাহ আলমের বিরুদ্ধে

অভয়নগর প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-০৪ (শ্যামনগর–কালিগঞ্জ আংশিক) আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ভারত পলায়নের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কোটি টাকার গোপন চুক্তির মাধ্যমে জগলুল হায়দার ও তার পরিবারকে ভারতে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন কথিত বিএনপি নেতা শাহ আলম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাতের আঁধারে জগলুল হায়দার স্বপরিবারে শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের নৈকাটি এলাকার সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ পলায়নের আগে তিনি শাহ আলমের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং শাহ আলম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নৌকা ভাড়া ও সীমান্ত পারাপারের যাবতীয় ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই পলায়নের বিনিময়ে সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের কাছ থেকে এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন শাহ আলম। স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, শাহ আলম জগলুল হায়দারের নিকট আত্মীয়—জগলুল হায়দারের বোনাই হুদার ছোট ভাই।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জগলুল হায়দার সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে ঘুষ বাণিজ্য, মামলা ও চাকরি বাণিজ্য, জমি দখল এবং বাগদা চিংড়ি ঘেরে অপদ্রব্য ‘পুশ’-এর সুযোগ করে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এসব অপকর্মের মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে শত শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সময় জগলুল হায়দারের নাম ভাঙিয়ে শাহ আলম এলাকায় প্রকাশ্যেই জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। নিরীহ মানুষের ওপর ভয়ভীতি, নির্যাতন ও অন্যায়-অবিচার চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। বর্তমানে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা দাবি করে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছেন শাহ আলম, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শাহ আলম শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের মেন্দিনগর গ্রামের প্রয়াত সিদ্দিক গাজীর ছেলে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জগলুল হায়দার আমাদের আত্মীয়। তবে কোটি টাকার বিনিময়ে তাকে ভারতে পার করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”



ফেসবুক কর্নার