August 5, 2026, 4:56 pm

প্রেমের টানে কেরানীগঞ্জে চীনা যুবক, বিয়ে করলেন

অভয়নগর প্রতিবেদক

হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা- কোনো কিছুই যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ভালোবাসার কাছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন চীনা নাগরিক ওয়াং জিয়াওপাং।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কেরানীগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে শুভ ইসলাম। প্রেমিকা সানজিদা আক্তার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাজীনগর এলাকার মৃত কবির হোসেনের মেয়ে। পরিবার জানায়, পরিচয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরে বাংলাদেশে এসে গত ২৭ জুলাই মেয়ের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সানজিদা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর শুভ ইসলামকে বিয়ে করেন তিনি।
ভবিষ্যতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সংসার গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
শুভ ইসলাম জানান, বাংলাদেশে এসে তিনি আন্তরিকতা ও পারিবারিক উষ্ণতায় মুগ্ধ হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত তিনি স্বেচ্ছায় নিয়েছেন। স্ত্রীকে নিয়ে সুখী জীবন গড়তে চান।
এদিকে ব্যতিক্রমী এই বিয়ে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ বিষয়টিকে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভিন্ন সংস্কৃতির দুই মানুষের সংসারজীবন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। সানজিদার মা নাসীমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করেই তারা বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, পারস্পরিক সহযোগিতায় তাদের সংসার সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে।’
সানজিদার ফুফু শাহীনুর বেগমও বলেন, ‘শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও ছেলেটির আচরণ ও আন্তরিকতায় পরিবারের সদস্যরা সন্তুষ্ট। তারা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবন কামনা করেন।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সানজিদাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শুভ ইসলামের। তাদের প্রত্যাশা, ভিন্ন দুই দেশের এই সম্পর্ক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এদিকে বিদেশি জামাইয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চীনা যুবককে একনজর দেখতে এবং তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে স্থানীয় উৎসুক জনতা প্রতিনিয়ত কনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।



ফেসবুক কর্নার