June 3, 2026, 11:08 pm
শিরোনাম :
ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা ভোররাতের আগুনে পুড়ল হোটেল ও তেলের দোকান, ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা দুস্থদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ মায়ের কঙ্কালসার দেহ আর সফল সন্তানদের বিবেক: এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতা নওগাঁয় মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষোভ, অভিযুক্ত নারীকে ঘিরে প্রশ্ন

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের আড়ালে অপসংস্কৃতি ও মূর্খতার জয়জয়কার: সমাজ কোন পথে?

অভয়নগর প্রতিবেদক

 স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় এখন যে কেউ অনলাইনের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল তথাকথিত ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ সৃজনশীলতার পরিবর্তে মূর্খতা ও বেহায়াপনাকে পুঁজি করে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে স্ক্রল করলে এখন দেখা যায় অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ড। সস্তা জনপ্রিয়তা এবং গুটিকয়েক ভিউ ও লাইকের আশায় অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নিজেদের পারিবারিক গোপনীয়তা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছেন। নিজের ইচ্ছা মত হাত পা ছুড়লে কিংবা দুই তিনটা লাইন বললেই সেটাকে কন্টেন্ট বলা যায় না। সেখানে অবশ্যই থাকতে হবে গল্প বা স্টোরি টেলিং।
 শিক্ষার অভাব এবং নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এই ধরণের কন্টেন্টের প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোনো রকম মেধা বা জ্ঞান ছাড়াই কেবল অসংলগ্ন আচরণ করে তারা রাতারাতি তারকা হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার পেছনে রয়েছে আর্থিক লাভের মোহ। ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মানহীন কন্টেন্টের জোয়ার বইছে। তথাকথিত এই ক্রিয়েটররা মনে করছেন, “যত বিতর্কিত কাজ করা যাবে, তত বেশি ভিউ হবে।” ফলে তারা সমাজ ও সংস্কৃতির তোয়াক্কা না করে এমন সব ভিডিও তৈরি করছেন, যা পরিবার নিয়ে দেখার অযোগ্য। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তারা সৃজনশীল কাজ বাদ দিয়ে এই মূর্খতাকেই সফলতার সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ফেসবুক, ইউটিউব,  টিকটক অনেক সময় নেতিবাচক বা বিতর্কিত বিষয়কে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে যারা সুস্থ ও শিক্ষামূলক কন্টেন্ট তৈরি করছেন, তারা আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন। মেধার চেয়ে এখন ‘বেহায়াপনা’ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, যা একটি জাতির জন্য অশনি সংকেত। মানুষ যখন জ্ঞানের চেয়ে সস্তা বিনোদনকে বেশি প্রাধান্য দিতে শুরু করে, তখন সমাজে রুচির দুর্ভিক্ষ  দেখা দেয়।
সর্বশেষে বলা যায়, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন একটি সৃজনশীল শিল্প। একে মূর্খতা আর অশ্লীলতার হাতিয়ার হতে দেওয়া যায় না। সমাজ ও পরবর্তী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এখনই এই ‘ভিউ-সর্বস্ব’ বেহায়াপনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, স্ক্রিনের ওপরের চাকচিক্য যদি মানুষের বিবেককে ধ্বংস করে দেয়, তবে সেই প্রযুক্তির কোনো সার্থকতা নেই।



ফেসবুক কর্নার