August 18, 2026, 4:33 pm
শিরোনাম :
পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার নয় গ্যাসসংকটে ২৬ দিন বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, যুবদল নেতা হত্যা: স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন বন্দরে ন্যূনতম যাত্রীসেবাও নেই, ২ কোটি টাকার ঘাট ইজারায়ও কমেনি ভোগান্তি বিদ্যুৎহীন মোবাইলের আলোয় ৩৭ জনের ইমপ্লান্ট অপসারণ দৌলতপুরে খ্রিষ্টিয়ান নেতার জমি দখলের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালীদের ছায়া? ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজন গ্রেপ্তার বিআরটিএ কার্যালয়ে পার্কিং সংকটে গ্রাহক-এলাকাবাসীর ভোগান্তি থানার হাজত থেকে আ.লীগ নেতার ভিডিও, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার চালু হওয়ার প্রথম দিনেই পিংক বাসে ধাক্কা

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণে তুঘলকি কাণ্ড আশাশুনিতে কম্বল প্রকল্পে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিবেদক

শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে ঘিরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ঘটেছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। কম্বল বিতরণের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের এমন ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে আলোচিত “বালিশ কাণ্ড”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। জরিপ অনুযায়ী উপজেলাটির ১১টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়নে ৭৫টি করে মোট ৮২৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়া উপজেলার কর্মরত গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০০টি এবং বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ১৫০টি কম্বল দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রকৃত বিতরণকৃত কম্বলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৫টি।
তবে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি মোট ১ হাজার ৩০২টি কম্বল বিতরণ করেছেন—যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, শীতবস্ত্র বিতরণ প্রকল্পে আশাশুনি উপজেলার জন্য ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আইটি ভ্যাট বাবদ ৯০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট থাকে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো—প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রতিটি কম্বলের মূল্য দেখিয়েছেন ৪৪১ টাকা।
স্থানীয় বাজার ঘুরে জানা গেছে, একই মানের কম্বল সাতক্ষীরার ভ্যারাইটি স্টোর ও ফাল্গুনী বস্ত্রালয়সহ বিভিন্ন দোকানে ২৩৫ টাকা দরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি কম্বলে প্রায় ২০৬ টাকা অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে।
এ হিসাবে জনগণের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম এই প্রকল্প থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩ শত ৭৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কম্বলগুলো ক্রয় করা হয়েছে খুলনার নিকসন মার্কেটের মেসার্স কামাল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শীতার্ত মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চরম মানবতাবিরোধী। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান হিমুর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।



ফেসবুক কর্নার