August 18, 2026, 3:59 pm
শিরোনাম :
গ্যাসসংকটে ২৬ দিন বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, যুবদল নেতা হত্যা: স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন বন্দরে ন্যূনতম যাত্রীসেবাও নেই, ২ কোটি টাকার ঘাট ইজারায়ও কমেনি ভোগান্তি বিদ্যুৎহীন মোবাইলের আলোয় ৩৭ জনের ইমপ্লান্ট অপসারণ দৌলতপুরে খ্রিষ্টিয়ান নেতার জমি দখলের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালীদের ছায়া? ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজন গ্রেপ্তার বিআরটিএ কার্যালয়ে পার্কিং সংকটে গ্রাহক-এলাকাবাসীর ভোগান্তি থানার হাজত থেকে আ.লীগ নেতার ভিডিও, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার চালু হওয়ার প্রথম দিনেই পিংক বাসে ধাক্কা রাজবাড়ীতে একই দিনে মহাসড়কে পৃথক ৩ দুর্ঘটনা নিহত ১ , আহত ১০

গ্যাসসংকটে ২৬ দিন বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র,

আনোয়ার হোসেন

গ্যাসসংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন টানা ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি বেড়ে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
আরপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শম্ভুগঞ্জে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এবং গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। তবে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি গ্যাসের অভাবে আগে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল। আরপিসিএলের বার্ষিক প্রতিবেদনেও উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদনের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে।
আরপিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৭ সালের পর দেশে গ্যাসসংকট বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটিতে সরবরাহ ধীরে ধীরে কমেছে। ফলে বছরের পর বছর সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়েছে। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় উৎপাদন শূন্যে নেমে এসেছে। ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। এদিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়ে গিয়ে বিভাগজুড়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট আরও প্রকট হতে পারে।



ফেসবুক কর্নার