হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন দেওয়াকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও ২ শিবিরে বিভক্ত হয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই ২ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনের নাম ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিএনপির অপর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ শহিদুল আলম গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্ষোভ চরমে উঠেছে। প্রার্থী ঘোষণার পর পরই কালিগঞ্জ-আশাশুনি উপজেলা জুড়ে ২ নভেম্বর রাত থেকে ডাঃ শহিদুল আলম পন্থীদের মধ্যে ক্ষোভে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে টানা আজ টানা ১০ দিন ধরে কাজী আলাউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মী, সমর্থক ছাড়াও হিন্দু ,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ সর্বস্তরের জনগণ কালীগঞ্জ -আশাশুনি উপজেলার সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।ঐ সময় বিক্ষোভ কারীরা রাস্তায় এসে স্লোগান দিয়ে থাকেন। গরিবের ডাঃ শহিদুল আলম ভাইকে চাই, জনগণের প্রার্থী চাই। তারা কাজী আলাউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করে ডাঃ শহিদুল আলম কে পুনরায় মনোনয়নের দাবী জানান। এ আন্দোলন বিক্ষোভে কালিগঞ্জ- শ্যামনগর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে এলাকায় জনদুর্ভোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে কাজী আলাউদ্দিনের নেতাকর্মী সমর্থকরা দলীয় প্রতীক ধানের শীষ হাতে আনন্দ মিছিল করে বিএনপি’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। মিছিল গণসংযোগে সহ তারেক জিয়ার ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ সহ বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন। ঐ সময় বক্তারা বলছেন দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আলাউদ্দিন ভাই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে আছেন। তিনিই আন্দোলন সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতা। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন বলেন দল আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি এই আসন বিএনপিকে উপহার দিতে চাই কর্মীদের আবেগ আছে। কেউ আমাকে ভালবাসে আবার কেউ ডাঃ শহিদুল আলমকে ভালবাসেন। কিন্তু আমরা সবাই একই দলের মানুষ। এই গ্রুপিং বিভাজন শীঘ্রই মিটে যাবে। তিনি আরো বলেন আমি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আস্থাশীল। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবো। অপরদিকে ডাঃ শহিদুল আলম বলেন দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। তবে আমার নেতাকর্মী কর্মী সমর্থক ভক্তরা ভালোবাসা থেকে আন্দোলন করছে। আমি কাউকে রাস্তায় নামতে বলেনি। আমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নই। তবে আমার দলীয় নেতা কর্মী সমর্থকদের আশা দল মনোনয়নের ব্যাপারে পূর্ণ বিবেচনা করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন এ আসনে ডাঃ শহিদুল আলমের বিকল্প নাই। তিনি একমাত্র যোগ্যপ্রার্থী এবং দীর্ঘদিন এই অঞ্চলের জনগণের জন্য কাজ করে জনগণের অন্তর তথা মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। এখানে তাকে মনোনয়ন না দিলে এ আসন নিশ্চিত হারাবে বিএনপি। কাজী আলাউদ্দিনের কালিগঞ্জে বাড়ি হলেও আশাশুনি উপজেলা তার জন্য একেবারেই নতুন। তাছাড়াও এই আসনটি জামায়াতের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত। তাই জনগণের দাবীকে সমর্থন জানিয়ে বিএনপির উচিত ধানের শীষ বাঁচানোর জন্য পূর্ণ বিবেচনা করে মনোনয়নপত্র শেষ পর্যন্ত ডাঃ শহিদুল আলমকেই না দিলে দলের এই বিভাজন দূর হবে না। তাছাড়া তিনি বিগত ২০০১ সালে ভাঙ্গন কবলিত জাতীয় পার্টিতে নাজিউর রহমান মঞ্জু (নাফি) গ্রুপ থেকে বিএনপি, জামায়াতের ৪ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । তিনি আরো বলেন ২০০৬ সালের দিকে বিএনপিতে যোগদান করার পরে আর কোন সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি । তৎকালীন কালিগঞ্জ- দেবহাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা- ৪ আসনে কাজ করলেও বর্তমান বিভাজনকৃত কালীগঞ্জ- আসাশুনি নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে তিনি বিশেষ করে আশাশুনি মানুষের কাছে একেবারে নতুন মুখ হিসাবে পরিচিত। অপরদিকে ডাঃ শহিদুল আলম দীর্ঘ ২৫/৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষের বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা সহ রাজনৈতিকভাবে সবার সেবা দিয়ে আসছে। যে কারণে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ,খ্রিষ্টান বলে কোন ভেদাভেদ ছাড়া তিনি সবার নিকট গরীবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত লাভ করে গরিবের ডাক্তার খেতাব পেয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে কাজী আলাউদ্দিন ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ এবং ধানের শীষের প্রচারে কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের আল্লাহর দান মৎস্য অকশন সেন্টার এবং কাচা বাজার সহ এলাকার হাটবাজারে বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন আমার নির্বাচনী এলাকায় নতুন করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো যদি আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেন। ঐ সময় তার সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা কমিটির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম সহ বিএনপির অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে কাজী হটাও ধানের শীষ বাঁচাও এই স্লোগানকে সামনে রেখে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল বিকাল সাড়ে ৪ টা অবস্থান কর্মসূচির কথা থাকলেও আকস্মিকভাবে তা স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল তাদের কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।