March 6, 2026, 4:39 am
শিরোনাম :
মাগুরায় আওয়ামীলীগ কার্যালয় সামনে পতাকা উত্তোলন আগুন ও ভাংচুর, আটক ৩ কুড়িগ্রামে নয় বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ, যাতায়াতে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার রমজানকে ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার: রামপালে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা আরও এক দেশে সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ একযোগে রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ৫ দিন ধরে ইন্টারনেট নেই ইরানে কালিগঞ্জে অবৈধ ২ টি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

বদলির আদেশ অকার্যকর! বিএডিসিতে হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক দাপট অটুট

অভয়নগর প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর সাম্প্রতিক একটি বদলি আদেশ এখন আর নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এই বদলিকে ঘিরে কর্পোরেশনের ভেতর ও বাইরে রাজনৈতিক প্রভাব, শ্রমিক রাজনীতি এবং ক্ষমতার বলয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলির আদেশ জারি হলেও মো. হারুন অর রশিদ যেভাবে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন, তা সংশ্লিষ্ট মহলে স্পষ্ট করে দিয়েছে—এটি কেবল বদলির ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাপটের বাস্তব প্রতিফলন।
বিএডিসির সংস্থাপন বিভাগ থেকে জারিকৃত অফিস আদেশে সিড টেস্টার পদে কর্মরত মো. হারুন অর রশিদকে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি রাজশাহী থেকে একই পদে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি বগুড়ায় বদলি করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বদলির আদেশ জারির পরও তিনি কার্যত রাজশাহীতেই বহাল রয়েছেন।
এই বদলিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে। বদলি কার্যকর হলেও কেন তিনি এখনও বিএডিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)-এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে বহাল রয়েছেন—সে প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি।
বিএডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক অফিস সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মো. হারুন অর রশিদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়, শ্রমিক রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ের প্রভাব বলয়। সূত্রগুলোর মতে, তিনি কেবল একজন কর্মকর্তা নন; বরং রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক রাজনীতির এমন এক কেন্দ্রীয় চরিত্র, যার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।
একাধিক কর্মকর্তা মন্তব্য করে বলেন, “বদলি কাগজে হয়, কিন্তু ক্ষমতা চলে মাঠে—হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে সেটিই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসে আরও স্পষ্ট চিত্র। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মো. হারুন অর রশিদ জাতীয় শ্রমিক লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দলীয় সভা, মিছিল ও সমাবেশে তাঁকে নিয়মিত সামনের কাতারে দেখা যেত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই সক্রিয় উপস্থিতিই তাঁকে শাসকদলের শ্রমিক রাজনীতির প্রভাবশালী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তোলে, যার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
একজন শ্রমিক সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় শ্রমিক লীগের বড় কর্মসূচি মানেই হারুন অর রশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই।”
আরেকটি অফিস সূত্র আরও সরাসরি মন্তব্য করে জানায়, “এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বদলি হলেও তাঁকে সাংগঠনিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি।”
সূত্রগুলো আরও জানায়, রাজশাহী জেলা শাখায় তাঁর বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমানভাবে গড়ে না ওঠায় তাঁকে সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অনীহা ছিল। দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় যোগাযোগ, শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতীতের রাজনৈতিক সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে তাঁকে বাদ দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝেও তাঁর প্রভাব এখনো বিদ্যমান। কেউ কেউ তাঁকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেন, আবার অনেকেই নীরবে স্বীকার করেন—তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ওজন উপেক্ষা করা বাস্তবে কঠিন।
এক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী বলেন, “তিনি যা বলেন, সেটার পেছনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি থাকে—এটাই বাস্তবতা।”
বিএডিসির প্রশাসনিক অন্দরমহলেও এই প্রভাব অস্বীকার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বদলি কেবল কাগুজে সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তব ব্যবস্থাপনায় তাঁদের অবস্থান হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। মো. হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে রাজশাহী অঞ্চলে কর্মরত। এ সময় উপপরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং একাধিকবার এসব বিষয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসি পাটবীজ রাজশাহীর উপপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। তবে কোনো অন্যায় কাজে জড়িত ছিলাম না।”
অন্যদিকে, বক্তব্য জানার জন্য বিএডিসি রাজশাহীর উপপরিচালক (পাটবীজ) এইচ. এস. জাহিদুল ফেরদৌসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক বদলির আদেশ জারি হলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়ায় বিএডিসির অভ্যন্তরে প্রশ্ন এখন একটাই—বদলি কি সত্যিই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে সেটিও আজ নীরব?



ফেসবুক কর্নার