March 6, 2026, 12:48 am
শিরোনাম :

সাতক্ষীরায় সাংবাদিক পরিচয়ে অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগীরা

অভয়নগর প্রতিবেদক

সাতক্ষীরায় ডা. এম. আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে পাইলস, অর্শ, ফিস্টুলা, পলিপাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার নামে একাধিক চেম্বার পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জজ কোর্ট ও পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চেম্বারসহ কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ও নলতা কলেজ সংলগ্ন স্থানে তিনি রোগী দেখেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে তার ডজনখানেক চেম্বার রয়েছে। রোগীদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বিএসএস (সমাজবিজ্ঞান) এবং ডিইউএমএস (ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) নিবন্ধনপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসক হওয়া প্রয়োজন। তাই তার চিকিৎসা কার্যক্রমের আইনি বৈধতা ও এখতিয়ারে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভুল চিকিৎসা বা বিলম্বিত চিকিৎসার কারণে রোগীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক নজরদারির বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একাধিক রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চিকিৎসা প্রাপ্তি সত্ত্বেও ওষুধ ও পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে এম. আমিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেছেন, তিনি বিষয়টি যাচাই করবেন। দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, সম্ভবত কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাস্থ্য সেবার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি। তারা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার