
সংসদীয় যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১,৩০,৫৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থী মাওলানা রশীদ আহমেদ পান ৫৪,৪১৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইকবাল হোসেন (কলস প্রতীক) পান ৮৪,২৭৬ ভোট।
নির্বাচনের পর টানা দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নবনির্বাচিত এমপি। তিনি রাজগঞ্জ বাজার, পারখাজুরা, বেলতলা চাকলা বাজার, শয়লা, নেংগুড়াহাট, চিনেটোলা, দূর্বাডাঙ্গা, শ্যামনগর বাজার ও মনোহরপুর তে-মাথা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
রাজগঞ্জে থানা স্থাপনের ইঙ্গিত
রাজগঞ্জ বাজারে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, মণিরামপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম। পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নগুলোতে আইনশৃঙ্খলা কাঠামো জোরদার করা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে রাজগঞ্জ বাজারে পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এমপি বলেন, থানা স্থাপিত হলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সড়ক উন্নয়ন, মাদক ও অপরাধ দমন এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বে কঠোর অবস্থান
গাজী এনামুল হক বলেন, নির্বাচনের সময় যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হবে। বাজারভিত্তিক চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে কোনো দলীয় বিভাজন নেই। পুরো মণিরামপুরবাসীর দায়িত্ব আমার। চাঁদাবাজ, দখলদার বা মাদক কারবারি—সে যে দলেরই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। নির্বাচনের পর মাঠপর্যায়ে এমপির সরাসরি জনসম্পৃক্ততাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মণিরামপুরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসবে।