
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা-র বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার (এমবিবিএস) পদে নিয়োগ থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর-এর আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তবে জটিল রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কেন্দ্রে সপ্তাহে এক-দুদিন চিকিৎসক এলেও অধিকাংশ কেন্দ্রেই নিয়মিত সেবা পাওয়া যায় না। কোথাও কোথাও জনবল সংকটের অজুহাতে কেন্দ্র আংশিক খোলা রাখারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রোগীর উপস্থিতিও কমে গেছে।
ফতেপুর ইউনিয়নের এক রোগীর স্বজন জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগলেও কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কাটিরহাট কেন্দ্রেও একই চিত্রের কথা জানিয়েছেন আরেক অভিভাবক। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকলে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতো না।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, জনবল সংকট থাকলেও কেন্দ্র বন্ধ রাখার সুযোগ নেই; বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানান, সংযুক্তির কারণে অনেক চিকিৎসককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সাময়িক সংযুক্তির ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন কেন্দ্রে চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকার নিয়ম নেই। তিনি জানান, নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।