
কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা ঝিনাইদহ জেলার বহু শিক্ষিত যুবক উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব। সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের ইমন কিংবা শৈলকুপার সোহাগ মোল্লার মতো অনেকেই নিখোঁজ অথবা বিদেশের মাটিতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিশরে গিয়ে গত তিন মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ইমন নামের এক যুবক। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন সোহাগ মোল্লা। তার মরদেহ দেশে আনার সামর্থ্যও নেই পরিবারের। অভিযোগ রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সক্রিয় অন্তত ৩০টি মানবপাচার চক্র ও শতাধিক দালাল সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে দালালরা বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ তৈরি করছে। লেনদেনের কোনো বৈধ নথিপত্র না থাকায় ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পেতেও সমস্যায় পড়ছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই প্রতারণা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সচেতনতা না বাড়লে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের প্রতারণা অব্যাহত থাকবে এবং আরও পরিবার সর্বস্বান্ত হবে।