
রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আস্থা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আলোচিত নাম মাহফুজুর রহমান রিটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে নিজের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করেছেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উত্থান
রিটনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজশাহী সিটি কলেজ শাখা থেকে। ছাত্রজীবনে তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সংগঠনকে সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হন। মহানগর পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তৃণমূলভিত্তিক কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত হন।
যুবরাজনীতিতে ভূমিকা
ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবরাজনীতিতে এসে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর রাজশাহী মহানগর শাখায় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
বর্তমান দায়িত্ব ও আলোচনা
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। নগরীর একটি অংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
রিটনের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তিনি সবসময় জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজনীতি করেছেন। ব্যক্তিগত পদ-পদবী তাঁর লক্ষ্য নয়; তবে দল ও জনগণ দায়িত্ব দিলে সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে তা পালনের চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, রাজশাহীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ও অসমাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলে নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
রিটন আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে প্রতিকূল সময়েও তিনি মাঠে সক্রিয় থেকেছেন এবং সংগঠন সচল রাখতে কাজ করেছেন। সমর্থকদের আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো সিদ্ধান্ত দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের—এবং তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।