
চট্টগ্রামের কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী নাজির বাড়ির আদর্শিক উত্তরসূরি অ্যাডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী আজ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অঙ্গনে সাহসী ও দৃঢ়চেতা কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ভাষাসৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বদিউল আলম চৌধুরীর আদর্শে বেড়ে ওঠা এই আইনজীবী ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন। পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক সচেতনতা, দেশপ্রেম ও সংগ্রামের ঐতিহ্য তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষাজীবনে মেধাবী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ কানিজ কাউসার ১৯৯১ সালে সেন্ট স্কলাস্টিকা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। ২০০২ সালের ২৯ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আইন পেশায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এজিপি ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাছে আইন পেশা কেবল জীবিকা নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম আইন কলেজে মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় গণতন্ত্র মঞ্চে ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার দৃষ্টান্ত। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মাধ্যমে রাজনৈতিক মামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
১/১১–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষে আদালতে সক্রিয় উপস্থিতি, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান, বিভিন্ন বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে সামনের সারিতে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে তিনি আপসহীন অবস্থানের পরিচয় দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচিতে তিনি সরব ভূমিকা রাখেন এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানবব্যারিকেডেও অংশ নেন।
আইন পেশার পাশাপাশি মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। দুই শতাধিক দরিদ্র মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করেছেন এবং লিগ্যাল এইড দিয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে কাজ করে যাচ্ছেন।
অ্যাডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী প্রমাণ করেছেন—রাজনীতি মানে শুধু মিছিল নয়, দায়িত্বও; আইন পেশা মানে কেবল আদালত নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। প্রতিকূল সময়ে আপসহীন অবস্থান, যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সংগ্রামী আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।