
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান রাঙামাটিতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ছয় দিনের সফরে রাঙামাটিতে এসে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
রোববার (১ মার্চ) জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্ধারিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। তিনি পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎসহ মৌলিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাদের চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনের অসামঞ্জস্যতা দূর করার বিষয়েও মতামত গ্রহণ করেন তিনি। জেলা পরিষদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরিষদ যেমন আছে তেমনই থাকবে এবং তাদের নিয়েই কার্যক্রম চলবে।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সকলের মতামত নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিংসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম (বার), জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে মন্ত্রী স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অংশীজনদের দেওয়া পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।