
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেল সংগ্রহে অস্বাভাবিক হিড়িক দেখা দিয়েছে। তেলের দাম কমতে পারে বা সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে—এমন গুজবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা। ফলে পাম্পগুলোতে বাড়ছে ভিড় এবং বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের একাধিক তেল পাম্পে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেকেই ড্রাম বা অতিরিক্ত পাত্রে তেল মজুদ করার চেষ্টা করছেন, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে প্রকৃত প্রয়োজনে তেল নিতে আসা চালকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নেমেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ ও চালকদের জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রতিটি যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নিবন্ধন সনদ (ব্লু-বুক) যাচাই করে তেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহনকে তেল না দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, পাম্প এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা জরুরি। সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ না করা এবং সড়কে চলাচলের সময় আইন মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেল একটি জাতীয় সম্পদ—এর সঠিক ব্যবহার ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি না করে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।