
দেশজুড়ে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। এরই মধ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক তেল পাম্পে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যের রূঢ় আচরণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালীগঞ্জের একটি পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের সঙ্গে ওই পুলিশ সদস্য অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণ করেন। সংকটের এই সময়ে এমন আচরণ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পরবর্তীতে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের মতে, দেশের সার্বিক জ্বালানি সংকটের একটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই ঘটনায়। সরবরাহ সংকটের কারণে প্রায় সব পাম্পেই দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা দিচ্ছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু পাম্পে নিয়ম ভেঙে প্রভাবশালীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের নেতিবাচক আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ অভিযুক্ত সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করেছে। স্থানীয়রা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সংকটের এই সময়ে পুলিশের দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু সরবরাহ নিশ্চিত করাই নয়, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আচরণেও মানবিকতা ও ধৈর্য থাকা জরুরি। সংকটকালে জনগণের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও নজরদারি বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংকট মোকাবিলায় প্রশাসন আরও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করবে।