
পাহাড়ি জনপদ লামা পৌরসভার শিক্ষা খাতে উন্নয়নের চিত্রে স্পষ্ট বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার আওতাধীন ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টিতে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মিত হলেও ‘চেয়ারম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এখনো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আধুনিক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পেলেও চেয়ারম্যান পাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর আশ্বাস মিললেও নতুন ভবন নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অভিভাবকদের ভাষ্য, পৌরসভার প্রায় সব বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মিত হলেও তাদের সন্তানরা এখনো পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পড়াশোনা করছে, যা চরম বৈষম্যের শামিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে চেয়ারম্যান পাড়া বিদ্যালয়টি কেন এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—এই অবহেলার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ নাকি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)?
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যালয়টির নাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় মানববন্ধনসহ বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।