বান্দরবানের লামা উপজেলার গহিন অরণ্যে প্রায় আড়াই হাজার একর পাহাড়জুড়ে গড়ে ওঠা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রধান কেন্দ্র ‘কোয়ান্টামম’ নিয়ে দানা বাঁধছে নানা রহস্য। সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক ড্রোন ফুটেজ ও স্থানীয় অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা জনমনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ১২০০-এর অধিক কর্মীর বিশাল এই বহর ঠিক কী কাজে নিয়োজিত, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লামার সরই ইউনিয়নে প্রায় ২৫০০ একরের বেশি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে এই সেন্টারটি। প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্প্রতি ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১২০০ কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নিজেদের ‘ভলান্টিয়ার’ হিসেবে দাবি করেন।
রহস্যময় ‘ছাউনি’ ও ড্রোন ফুটেজ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কেন্দ্রটির ভেতরে এমন কিছু ছাউনি ও স্থাপনা রয়েছে যা সাধারণ ধ্যান কেন্দ্রের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো কোনো ফুটেজে এলাকাটিকে ‘অ্যাসল্ট গ্রাউন্ড’ বা সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সদৃশ মনে হয়েছে। সংরক্ষিত এই এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং সেখানকার কর্মীরা বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ রাখেন না। এই চরম গোপনীয়তা সেখানে ভিন্ন কোনো প্রশিক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সাম্প্রতিক বিতর্ক
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
গত ১৫ মার্চ ২০২৬-এ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘সায়েন্টিফিক লাইফস্টাইল’ প্রোগ্রামটি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থগিত করার নির্দেশ দেয়।পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে পাহাড় কাটার অভিযোগে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অংকের জরিমানা করে।স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারীর বিরুদ্ধে ‘মহাপ্রতারণা’ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ তুলেছেন।
জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় হাজার একর জায়গা নিয়ে এমন একটি ‘বদ্ধ’ সাম্রাজ্য পরিচালনা করা এবং সেখানে বিশাল জনবল মোতায়েন রাখা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ধ্যান বা আধ্যাত্মিকতার আড়ালে এখানে কী ঘটছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাহাড়ের এই রহস্যময় কেন্দ্রের ভেতরের প্রকৃত সত্য জানতে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।