April 23, 2026, 5:48 pm
শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ শেরপুরে জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শিক্ষকম্পতিকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে জানা যায়, এডিপি ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোর একটি বড় অংশে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। আবার কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মে জেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মুখ্য সচিব ড. আব্দুর রশিদের নাম ব্যবহার করে তার আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ নেওয়া হয়। বিশেষ করে কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর, রতনপুর ও ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহ, মন্দির, রাস্তা ও ক্লাব উন্নয়নের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রকল্পে আংশিক কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আবার কিছু প্রকল্পের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দের বড় অংশই কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তৈয়বুর রহমান, শিবলী রুমি ও মাহমুদুর রহমান নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, উন্নয়নের স্বার্থে প্রকল্পের সুপারিশ করলেও কোনো অনিয়মের সঙ্গে তারা জড়িত নন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আজমল হোসেন জানান, তিনি নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন। অন্যদিকে জেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
তবে সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “প্রকল্পে কী দেখতে হবে, কী করতে হবে সেটা আমার বিষয়। আপনারা লিখে কিছু করতে পারবেন না। টাকার ভাগ সবাই পায়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



ফেসবুক কর্নার