June 29, 2026, 1:51 pm
শিরোনাম :
অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে দীপু মনি জন্মদিনে রুক্মিনীকে নিয়ে দেবের প্রেমময় পোস্ট অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী চার বছরেও শেষ হয়নি বংশী নদীর সেতু, নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা; চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল কালীগঞ্জে এলজিইডি অফিসে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ, সিও রেজাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় যেতে গিয়ে হামলার শিকার কিশোরীসহ মা-বাবা, হাসপাতালে ভর্তি পঞ্চগড়ে মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, ৮ দিনেও মেলেনি খোঁজ; উৎকণ্ঠায় পরিবার বান্দরবানে রিসোর্টে নারী পর্যটককে হেনস্তা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মায়ের পর প্রাণ গেল ছেলেরও

মাস পেরোলেও কাটেনি জ্বালানি সংকট: দীর্ঘ লাইনে হাহাকার, জনমনে তীব্র ক্ষোভ! ​

অতনু বিশ্বাস

​এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, ফুয়েল কার্ড চালু, অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জেল-জরিমানা—কোনো কিছুতেই স্বস্তি ফিরছে না দেশের জ্বালানি বাজারে। প্রশাসন ও সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ সত্ত্বেও কেন এই সংকট কাটছে না, তা নিয়ে এখন জনমনে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় একই চিত্র—তেলের জন্য হাহাকার।

​সরজমিনে দেখা যায়, মধ্যরাত থেকেই বাইক ও গাড়ির দীর্ঘ সারি পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে মূল সড়কে গিয়ে ঠেকছে। রাত ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। প্রতিটি পাম্প এখন যেন এক একটি রণক্ষেত্র। তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সাথে পাম্প কর্মীদের এবং চালকদের একে অপরের সাথে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সরকার প্রতি বাইকে ১০০০ টাকার তেল সীমা নির্ধারণ এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি করলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্যাগ অফিসাররা পাম্পে কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যাওয়ার পরই শুরু হয় অনিয়ম।
• ​খোলা বাজারে চড়া দাম: পাম্পে তেল না থাকলেও ড্রাম ও বোতলে করে খোলা বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই মজুদ করছে কীভাবে?
• ​কাগজপত্রের শিথিলতা: পাম্পগুলোতে বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় তা মানা হচ্ছে না।

​জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা। বিশেষ করে এনজিও কর্মী, ওষুধ কোম্পানি এবং বিক্রয় ও বিপণন (Sales) বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের মোটরসাইকেল ছাড়া চলাচল করা অসম্ভব। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যক্তিগত ও জাতীয় অর্থনীতিতে।
​অন্যদিকে, সেচের মৌসুমে কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপদে। সঠিক সময়ে পাম্পে তেল না পাওয়ায় এবং তেলের সাথে ভেজাল মেশানোর আশঙ্কায় তাদের কৃষি সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, শুধু লোকদেখানো অভিযান বা জরিমানা দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। তারা চান:
১. জ্বালানি আমদানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুষম বণ্টন।
২. পাম্পগুলোতে স্থায়ী ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা।
৩. খোলা বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
৪. ভেজাল রোধে নিয়মিত ল্যাব টেস্টের ব্যবস্থা করা।
​সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—কবে শেষ হবে এই অন্তহীন অপেক্ষা?



ফেসবুক কর্নার